Blog
কচুর মুখি ও ইলিশ মাছের মাথা লেজের তরকারি রেসিপি
কচুর মুখি ও ইলিশ মাছের মাথা লেজের তরকারি রেসিপি 👇
যা যা লাগবে ( আপনার ইচ্ছে মত উলট পালট করে আরো বিস্তর এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন)
ইলিশ মাছের মাথা ও লেজ: ৪টি (টুকরো করা)
কচুর মুখি: আধা কেজি (ছোট ছোট করে কাটা)
পেঁয়াজ কুচি: ১ কাপ
পেঁয়াজ বাটা: ২ টেবিল চামচ ( না দিলেও হয়)
হলুদ গুঁড়ো: ১ চা চামচ
মরিচ গুঁড়ো: ২ চা চামচ (স্বাদ অনুযায়ী)
ধনিয়া গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ
ভাজা জিরা গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ
কাঁচামরিচ: ৯/১০ টি (মাঝখান থেকে চেরা)
সরিষার তেল বা সয়াবিন তেল: ৩-৪ টেবিল চামচ
পাঁচফোড়ন বা জিরে ফোড়ন: সামান্য ( না দিলেও হয়)
ধনে পাতা : অল্প কুচি
লবণ: স্বাদমত
কিভাবে রান্না হবে 🤔👇
কচুর মুখি সিদ্ধ করে নিবেন । কাটা কচুর মুখি সামান্য লবণ দিয়ে হালকা ভাপিয়ে (৬০-৭০%) পানি ঝরিয়ে নিন। এতে কচুর পিচ্ছিলভাব কমে যাবে এবং গলায় চুলকানোর ঝুঁকি থাকবে না। ইলিশের মাথা ও লেজে সামান্য হলুদ ও লবণ মাখিয়ে কড়াইয়ের গরম তেলে হালকা ভেজে তুলে রাখুন। ওই তেলেই পাঁচফোড়ন এর ফোড়ন দিন। এরপর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা সোনালি করে ভাজুন। পেঁয়াজ বাটা, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া গুঁড়ো ও লবণ সামান্য পানি দিয়ে গুলিয়ে কড়াইয়ে দিন। মসলা থেকে তেল ভেসে ওঠা পর্যন্ত ভালো করে কষিয়ে নিন।
কষানো মসলার মধ্যে ভাপিয়ে রাখা কচুর মুখি দিয়ে ৫ মিনিট মাঝারি আঁচে নাড়াচাড়া করে কষিয়ে নিন, যাতে মসলা মুখির ভেতরে ঢোকে।
এবার পরিমাণমতো গরম পানি (প্রায় ২ কাপ) দিয়ে দিন। ঝোল ফুটে উঠলে ভেজে রাখা মাছের মাথা ও কাঁচামরিচ দিয়ে দিন।
ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০-১২ মিনিট রান্না করুন, যতক্ষণ না কচুর মুখি একদম নরম হয়ে সিদ্ধ হয় এবং ঝোল মাখামাখা হয়ে আসে। নামানোর আগে উপর থেকে ভাজা জিরা গুঁড়ো ও ধনে পাতা কুচি ছিটিয়ে নামিয়ে নিন।
আর খাবার সময় একটু লেবুর রস দিয়ে খালিও সেই ভালো লাগে। গরম ভাতের কিংবা রুটি সব কিছুতেই সই।
একটু বই আর গুগল ঘেটে ঘুটে কচুর মুখি (ইংরেজিতে Tuber বা Bulb, মাটির নিচে থাকা রূপান্তরিত কাণ্ড বা মূল) কেন খাবেন তাও জানানোর চেস্টা করলাম।
কচুর মুখি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু কন্দ জাতীয় সবজি। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। খাবার হিসেবে কচুর মুখির প্রধান ভেষজ ও পুষ্টিগুণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর
কচুর মুখিতে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকে। এটি অন্ত্রের নাড়াচাড়া স্বাভাবিক রাখে, হজমপ্রক্রিয়া সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
কম ক্যালোরি এবং উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় কচুর মুখি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা আমেজ থাকে। ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর।
৩. রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) কম এবং এতে থাকা রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ শর্করা শোষণের গতি ধীর করে দেয়। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি নিরাপদ ও উপকারী খাদ্য।
৪. হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
কচুর মুখিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে। পটাশিয়াম শরীরের অতিরিক্ত সোডিয়ামের প্রভাব কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
এতে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন ‘এ’, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৬. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যানসার প্রতিরোধ
কচুর মুখিতে থাকা পলিফেনল এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকারক ফ্রি-রেডিকেল প্রতিরোধ করে কোষের ক্ষয় আটকায় এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
৭. রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ
এতে উপস্থিত আইরন ও কপার শরীরে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) তৈরিতে সাহায্য করে, যা রক্তস্বল্পতা (এনিমিয়া) দূর করতে ভূমিকা রাখে।
📌 সতর্কতা: কচুর মুখিতে অক্সালেট (Oxalate) নামক উপাদান থাকে, যা অনেক সময় গলায় চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে বা কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এটি সবসময় ভালো করে সিদ্ধ করে বা কষিয়ে রান্না করে খাওয়া উচিত।
